সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সুন্নতি সামগ্রীর অনুকরণে কিছু সুন্নতি সামগ্রীর ছবি (সংক্ষিপ্ত বর্ণনাসহ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আমার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাব)

আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলেদিন, যদি তারা আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত লাভ করতে চায় তাহলে তারা যেনো আপনার অনুসরণ করে, তাহলে আমি আল্লাহ পাক স্বয়ং তাদেরকে মুহব্বত করবো, তাদেরকে ক্ষমা করবো, তাদের প্রতি দয়ালু হবো; নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা আল ইমরান ৩১)

সুন্নতের ফযীলত সম্পর্কে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে মুহব্বত করলো, সে মূলতঃ আমাকেই মুহব্বত করলো। আর যে আমাকে মুহব্বত করবে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” (তিরমিযী শরীফ)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, আখিরী যামানায় যে ব্যক্তি একটি সুন্নত আঁকড়ে ধরে থাকবে তথা আমল করবে তাকে এর বিনিময়ে একশত শহীদ এর ছওয়াব প্রদান করা হবে।

সুন্নতি পাগড়ি মুবারক:

b1cd9d12d66537a02ca15f22b7e94a47_xlarge

পাগড়ীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: পাগড়ী পরিধান করা দায়েমী সুন্নত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদা পাগড়ী মোবারক পরিধান করতেন। তিনি ঘরেও পাগড়ী মোবারক পরিধান করতেন। মক্কা শরীফ বিজয়ের সময়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মোবারক-এ কাল পাগড়ী মোবারক ছিল। উনার পাগড়ী মুবারক-এর নিচে এবং পাগড়ী মুবারক ব্যতীত শুধু টুপিও ব্যবহার করেছেন। Read the rest of this entry

শিশু ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি রোমের বাদশাহ কতৃক প্রেরিত পাদ্রীকে যা জবাব দিলেন!

শিশু ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি রোমের বাদশাহ কতৃক প্রেরিত পাদ্রীকে যা জবাব দিলেন!

রোমের বাদশাহ এক পাদ্রী বা ধর্মযাজককে অনেক টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, আসবাবপত্র, মাল-সামানা দিয়ে বাগদাদ শরীফে পাঠালো। উদ্দেশ্য মুসলমান আলিম-উলামাগণ উনাদের সাথে মুনাযারা বা বাহাছে লিপ্ত হয়ে খ্রীস্ট ধর্মকে বিজিত করা। পাদ্রী বাগদাদ শরীফে পৌছে ঘোষনা দিলো, যে ব্যক্তি আমার চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে আমি তার ধর্ম গ্রহন করবো। আর আমার নিকট রক্ষিত ধনসম্পদগুলো তাকে পুরস্কার স্বরূপ দিয়ে দিবো। তবে যে আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না তাকে আমাদের ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। আর আমাদেরকে ট্যাক্স বা জিজিয়া কর দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করতে হবে। তার এই ঘোষণা যেন পুরো বাগদাদ শরীফের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ আকার ধারণ করলো।

সে পাদ্রী একটি প্রশস্ত রাস্তার মাথায় একটি উঁচু মিম্বর বসালো। তার উপর বসে তার বাহাদুরী জাহির করতে লাগলো। আম-খাছ সবধরণের লোকের উপস্থিতি ঘটলো। পাদ্রীদেরও আনাগোনা শুরু হলো। দিনের পর দিন সেই ভীড় বেড়ে যেতে লাগলো। সে তিনদিন ধরে গলা ফাটিয়ে সেই ঘোষণা দিতে লাগলো। প্রতিবাদী কোন লোকের আগমন না দেখে তার বাহাদুরীর পরিধি বেড়ে গেল।

উক্ত মজলিসে ৭/৮ বছরের একজন বালকের উপস্থিতি ঘটলো। যিনি উনার পিতার সাথে উপস্থিত হয়েছিলেন, এতো লোক একসাথে এখানে জমা হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। বালকটি দেখতে পেলেন পাদ্রী তার কুট কৌশলের দাপট বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাহাদুরী দেখাচ্ছে। কিন্তু কেউ কোন সন্তোষজনক জাওয়াব দিচ্ছে না। বালক তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার কাছে পাদ্রীর প্রশ্নের জাওয়াব দেয়ার অনুমতি চাইলেন। বললেন, আব্বাজান! আপনি অনুমতি দিলে পাদ্রীর প্রশ্নের সন্তোষজনক জাওয়াব আমি দিতে পারি।

সেই বালক তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মুবারক তখন অল্প। উনার বয়স কেউ কেউ সাত বছরের কথা উল্লেখ করেছেন; অর্থাৎ শিশুকালের ঘটনা।

উনার পিতা বললেন, যেখানে অনেক বড় বড় আলিম-উলামাগণ কোন জাওয়াব দিচ্ছেন না, সেখানে আপনি কি জাওয়াব দিবেন? তিনি অনুমতি দিলেন না। পুনরায় বালক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় পিতার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন। পিতা ধমকের সাথে বললেন, আপনি কি প্রলাপ বকছেন? আলিম উলামাদের সামনে আপনার কি বা জাওয়াব দেয়ার প্রমান আছে?

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভাবগাম্ভির্যের সাথে মিম্বরের উপর বসলেন। বললেন, বলুন! আপনার সেই প্রশ্নাবলী কি কি?

পাদ্রী বললো, প্রথম প্রশ্ন, মহান আল্লাহ পাক উনার পূর্বে কি ছিল?
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, গণিতের সংখ্যাগুলো আপনার স্মরণ আছে কি? স্মরণ থাকলে কিছু সংখ্যা গণনা করুন।
পাদ্রী বললো, এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, পূনরায় বলুন।
পাদ্রী বললো, এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, একের পূর্বে গণনা করুন।
পাদ্রী বললো, একের পূর্বে কিছু নেই। এক থেকে গণনা শুরু হয়।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, যখন রূপক সংখ্যার মাঝে একের পূর্বে কিছু না থাকে, তবে প্রকৃত একক মহান আল্লাহ পাক উনার পূর্বে কি কিছু থাকতে পারে?

পাদ্রী নিরুত্তর রইলো। কিছুক্ষণ পরে মাথা নেড়ে বললো, না কিছু থাকতে পারে না। আপনি ঠিকই বলেছেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, বলো, আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন কি?

পাদ্রী বলো, ২য় প্রশ্ন বলুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এখন কোথায় আছেন?
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনি কি একথা বলতে পারো যে, আপনার শরীরে রূহ কোথায়? রূহ তো আপনার ভিতরে স্বয়ং বিদ্যমান আছে।
পাদ্রী বললো, রূহের নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। তা শরীরের সর্বত্র বিদ্যমান।
তিনি বললেন, রূহ যা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক মাত্র। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
    يسئلونك عن الروح قل الروح من امر ربى.
    অর্থ: হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনি বলুন, রূহ হচ্ছে, আমার মহান রব আল্লাহ পাক উনার আদেশ মাত্র। অর্থাৎ উনার আদেশে সৃষ্টি হয়েছে।”
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, রূহ যা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশে সৃষ্টি হয়েছে এবং তা প্রত্যেক প্রাণীর মাঝে বিদ্যমান রয়েছে। অথচ আপনি তার অবস্থানের কথা বলতে পারছেন না। তাহলে রূহের সৃষ্টিকারী মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দিষ্ট স্থান ও পরিপূর্ণ মর্তবা কি আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন? তিনি তো সর্বত্র বিরাজমান। তিনি সর্বত্র হাযির-নাযির।

পাদ্রী ইহা শুনে লা-জাওয়াব (নিরুত্তর) রইলো। ক্ষীণ আওয়াজে বললো, নিঃসন্দেহে আপনার কথা যথার্থ ও বাস্তব।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনার তৃতীয় প্রশ্ন কি?

পাদ্রী বললো, ৩য় প্রশ্ন, মহান আল্লাহ পাক উনার চেহারা মুবারক কোন দিকে?
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উপস্থিত একজনকে বললেন, একটি মোমবাতি নিয়ে আসুন। মোমবাতি নিয়ে আসা হলো। উনার নির্দেশে তা জ্বালানো হলো। তিনি পাদ্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, বাতিটির মুখ কোন দিকে, বলুন?
পাদ্রী বললো, বাতিটির মুখ সবদিকে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোন দিক নেই। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আয’ম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, বাতি একটি ধ্বংসশীল বস্তু। তার মুখ যদি সবদিকেই থাকতে পারে। চারিদিকে আলোকিত করতে পারে। তাহলে ফিকির করুন, মহান আল্লাহ পাক যিনি ওয়াজিবুল ওজুদ এবং আসমান যমীনকে আলোকিতকারী। তাহলে উনার চেহারা মুবারক কেন এবং কিভাবে কোন নির্দিষ্ট দিকে থাকতে পারে?

পাদ্রী হিকমতপূর্ণ জাওয়াব শুনে লা-জাওয়াব- নির্বাক হয়ে গেলো। উপস্থিত সকল লোক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নূরাণী চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়ে রইলো।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, বলো, আপনার চতুর্থ প্রশ্ন কি?

পাদ্রী বললো, ৪র্থ প্রশ্ন বলুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এখন কি করছেন?

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এটাই করলেন যে, আপনার মতো বয়সধারী অহঙ্কারী ও পবিত্র তাওরাত শরীফ ও পবিত্র ইঞ্জিল শরীফ-এর অভিজ্ঞ এবং ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসীকে মিম্বর থেকে নীচে নামিয়েছেন। আর আমার মত অল্প বয়সী, একত্ববাদে বিশ্বাসী মুসলমানকে মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগত ত্বলিবে ইলিম (ছাত্র) শিশু সন্তানকে মিম্বরের উপর বসিয়ে দিলেন। আপনাকে দিলেন জিল্লত (অপমান) এবং আমাকে দিলেন ইজ্জত (সম্মান)। সুবহানাল্লাহ!

পরে রোমীয় পাদ্রী স্বীয় ওয়াদা ও শর্ত অনুযায়ী পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করলো-

لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল।”

(ইমামুল মুহাদ্দিসীন-১০৫)

সুবহানাল্লাহ!

দুনিয়া হলো আখিরাতের শষ্যক্ষেত্র

দুনিয়াদার মানুষের ইন্তিকালের পর তার রেখে যাওয়া সম্পদ সাধারণত: হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিয়তের অপরিশুদ্ধতা, আক্বীদার বিপর্যস্ততা, সম্মানিত সুন্নত উনার প্রতি অনীহা, নেক আমলহীনতা, অসৎ উপার্জন, হারামের প্রতি আসক্তি ইত্যাদি নানাবিধ কারণে জীবদ্দশায় দুনিয়াদার মানুষের জীবন নির্বাহ সম্পূর্ণরূপে গাইরুল্লাহ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কোপানলগ্রস্ত হয়ে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের বাসিন্দা হয়ে যায়। প্রেক্ষিত কারণে মরণের পরে তার রেখে যাওয়া সম্পদ হাক্বীক্বী নেক কাজে ব্যয় হওয়ার নযীর কখনোই দেখা যায় না। নাউযুবিল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে:

الدنياء مزرعة الاخرة

অর্থ: “দুনিয়া হলো আখিরাতের শষ্যক্ষেত্র।” আখিরাতে মানুষের সম্যক পরিণতি দুনিয়ায় জানা না গেলেও ঈমান, আক্বীদা, ইখলাছ এবং সম্পাদিত বাহ্যিক আমলের সূক্ষ্ম দর্শনে তার অবস্থা অনুভব করা যায়। এসব উপলব্ধি করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না হলেও মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের সূক্ষ্মদর্শিতায় দুনিয়াদার মানুষের হাক্বীক্বত জানা একান্তই সহজসাধ্য। কারণ দুনিয়াদার মানুষের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের পরিণতি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে কোন একদিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি বড় আকারের উটের বাথান ছিল। বাথানের উটগুলো ছিল খুবই হৃষ্টপুষ্ট। সেখানে এমন অনেক উট ছিল যাদের বাচ্চার দেয়ার সময় হয়েছিল। এই জাতীয় উট আরবের এক উৎকৃষ্ট সম্পদ। বাথানটির প্রতি দৃষ্টি মুবারক পড়ার সাথে সাথে তিনি দৃষ্টি মুবারক ফিরিয়ে নিলেন। ইহা দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহু! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহা অতি উত্তম সম্পদ! ইহা দিকে দৃষ্টি মুবারক পড়ার সাথে সাথে আপনি দৃষ্টি মুবারক ফিরিয়ে নিলেন কেন?

তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে পার্থিব ধন সম্পদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন-

ولا تمدن عينيك الى ما متعنا به ازواجا منهم زهرة الحياة الدنيا لنفتنهم فيه ورزق ربك خير وابقى

অর্থ: (হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ঐ সকল বস্তুর প্রতি কখনো আপনার চক্ষু মুবারক তুলেও তাকাবেন না যা মানবজাতির বহু সম্প্রদায়কে উপভোগের জন্য দেয়া হয়েছে। ইহা পার্থিব জীবনের শোভা বর্ধনকারী। যা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করা উদ্দেশ্য। আপনার জন্য আপনর রব তায়ালা যে রিযিক মুবারক নির্ধারণ করেছেন তা অতি উত্তম ও চিরস্থায়ী। (পবিত্র সূরা ত্ব-হা: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩১)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, যখন কোন লোককে মৌনতা অবলম্বনকারী (স্বল্পভাষী) এবং দুনিয়া বিরাগী (মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের একমাত্র সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিলের নিমিত্তে সংসার জীবন যাপনকারী) দেখতে পাবে তখন উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করবে। কেননা হিকমত (তত্ত্বজ্ঞান) উনাদের সাথেই সাক্ষাত করে।

আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন

ومن يؤت الحكمة فقد اوتى خيرا كثيرا

অর্থ: “যাকে হিকমত দেয়া হয়েছে তাকে খইরে কাছীর (প্রভূত কল্যাণ) দেয়া হয়েছে।”

এর পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেছেন, “যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত দুনিয়া বিরাগী হয়ে থাকতে পারবে তার মন ও মননকে মহান আল্লাহ পাক হিকমতের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করে দিবেন এবং তার যবানকে হিকমতের বাগ্মীতায় পূর্ণ করে দিবেন। (ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন-৭/৩১৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “দুনিয়া বিরাগী এবং হারামের ভয়ে ভীত এই দুটি বিষয় মানুষের হৃদয়ের মধ্যে প্রতিরাতে নূর বা আলো দান করে। যদি এ দুটি বস্তু এমন হৃদয় দেখতে পায় যার মধ্যে ঈমান ও লজ্জা থাকে তবে তারা উভয়ে সেই হৃদয়ে অবস্থান করে। আর এরূপ হৃদয় দেখতে না পেলে তখনই চলে যায়।” (ইহয়াউল উলূমিদ্দীন-৭/৩১৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “দানশীল ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী, লোকের নিকটবর্তী এবং জান্নাতের নিকটবর্তী, জাহান্নাম থেকে দূরে। আর বখীল বা কৃপন লোক মহান আল্লাহ পাক থেকে দূরে, লোকদের থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে, জাহান্নামের নিকটবর্তী। বখীল বা কৃপনতা দুনিয়ার প্রতি আসক্তির ফল এবং দানশীলতা দুনিয়ার প্রতি বিরাগীর ফল।

দূরুদ শরীফ হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্ট মুবারক লাভের সবচেয়ে সহজ এবং বিশেষ উছীলা

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

“আমার প্রতি অধিক দুরুদ শরীফ পাঠকারী কিয়ামতের দিন আমার সর্বাধিক কুরবত মুবারক লাভ করবেন”।
(তিরমিযী শরীফ)

সূরা তওবা শরীফ উনার ৬২ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয় । যখন এই আয়াত শরীফ নাযিল হলো যে, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মহান আল্লাহপাক উনাকে সন্তুষ্ট করতে হবে, তখন প্রধান ৪ ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে এসে আরজী করলেন,

ইয়া রসূলাল্লাহ, হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা জানতে পেরেছি, আমরা বুঝতে পেরেছি যে, মহান আল্লাহপাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে প্রথমে আপনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে হবে। সেজন্য আমরা চারজন এসেছি চারটি আরজু নিয়ে। আপনি দয়া করে আমাদের সেই চারটি আরজু যদি কবুল করতেন, তাহলে আমরা ইতমিনান লাভ করতে পারতাম।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা কি আরজু নিয়ে এসেছেন?

প্রথমে আরজু পেশ করলেন মালাকুল মউত হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সন্তুষ্টি মুবারকের লক্ষ্যে আমি নিয়ত করেছি, আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহপাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি দশবার পবিত্র দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, আমি এমনভাবে তার রুহ কবজ করবো যেমন আমি অতীতে হযরত নবী এবং রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রুহ মুবারক কবজ করেছি।
তখন হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরজু কবুল করলেন।
সুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয়ত আসলেন হযরত ইসরাফীল আলাইহি সালাম। তিনি বললেন ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ত করেছি আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে সেই কঠিন হাশরের দিন মানুষ যখন গুনাহ ফিকিরে পেরেশান থাকবে তখন আমি সিজদায় পড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সুপারিশ করে তার জিন্দেগি সমস্ত গুনাহ-খতাগুলি আমি ক্ষমা করিয়ে দিব ।
তখন নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই আরজু ও কবুল করলেন ।
সুবহানাল্লাহ!

এরপর তৃতীয়ত আসলেন হযরত মিকাইল আলাই সালাম। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ত করেছি আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহপাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি মাত্র দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, কঠিন হাশরের দিন মানুষ যখন পানির পিপাসায় হন্য হয়ে ঘুরতে থাকবে, হাউজে কাউছারের পানি ব্যতীত কোন পানি থাকবেনা, তখন আমি স্বয়ং নিজ হাতে হাউজে কাউছারের পানি নিয়ে তাকে পান করাবো।
সুবহানাল্লাহ! যে পানি পান করার পর জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার পিপাসা লাগবেনা৷
সুবহানাল্লাহ!
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই আরজুও কবুল করলেন।
সুবহানাল্লাহ!

এরপর চতুর্থত আসলেন হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ত করেছি আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি মাত্র দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, আমি তাকে হাতে ধরে চোখের পলকে পুলছিরাত পার করে জান্নাতে পৌছিয়ে দিবো৷
সুবহানাল্লাহ!
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই আরজুও কবুল করলেন।
সুবহানাল্লাহ!

এর ফলশ্রুতিতে দাড়ালো, কোন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মাত্র দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করে, তাকে চারটি বিশেষ মর্যাদা দান করা হবে। মূলত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির মূল।তাই উনার পবিত্র দুরুদ শরীফ সমস্ত ভালাইয়ের চাবিকাঠি। দুরুদ শরীফ ব্যতিত দুয়া কবুল হয় না, নামায কবুল হয় না। আবার দুরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে ভুলে যাওয়া বিষয় স্মরণ হয়, গুনাহ খতা ক্ষমা হয়, রোগ ব্যধি হতে শিফা লাভ হয়। সামগ্রিক ভাবে জীবনের প্রতিটি বিষয়ে দুরুদ শরীফ পাঠের কোন বিকল্প নেই।

কাসিদায়ে শাহ নেয়ামাতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভবিষ্যৎবাণী ও প্রিয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং গাজওয়াতুল হিন্দ

Gazwatul+Hindঅনলাইন ডেস্ক: কাসিদায়ে শাহ নেয়ামাতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভবিষ্যৎবাণী ও প্রিয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং গাজওয়াতুল হিন্দঃ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত কুদরতি ইলহাম উনার জ্ঞান দ্বারা আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশত বছর পুর্বে হিজরী ৫৪৮ সাল মোতাবেক ইসায়ী ১১৫২ সালে শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত কাব্যগুলো রচনা করেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক ওলী আউলিয়া পীর মাশায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের উনার কুদরত থেকে অসাধারন কিছু জ্ঞান দিয়েছেন যেমন উপমহাদেশের বিখ্যাত অলি আল্লাহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ইলহামী ইলম দিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ সাওয়াতিউল ইলহাম রচনা করেন, অনুরুপ হযরত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন অনেক উচু মাপের ওলী আল্লাহ। তাই উনি সেই ইলমে লাদুনীর (মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত জ্ঞান) কিছু অংশ এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন যা আপনি যদি এই কবিতাটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে সহজেই বুঝতে পারবেন যদি ইসলামি জ্ঞানের মাত্রা একটু বেশি থাকে।
এই সম্মানিত পবিত্র কাসিদা শরিফ লিখার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ভবিষ্যদ্বানী হুবহু মিলেছে বিন্দুমাত্র ব্যবধান হয়নি।
ব্রিটিশ বড় লাট লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) পবিত্র কাসিদা শরিফ খানা উনার প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
কবিতার ৩৭ নং প্যারা থেকো খেয়াল করুন। কারন এর পুর্বের লাইন গুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় শুধুমাত্র বর্তমান ও ভবিষতে কি ঘটতে পারে এটাই আমাদের দেখার বিষয়।
আমারা দুর্ভাগ্যবান বলতে পারেন! কারন পাকিস্তানি মুসলিম ভাইদের মাঝে পবিত্র কাসিদা শরিফ বেশ পরিচিত,
প্রসিদ্ধ এবং সমাদৃত অথচ বাংলাদেশে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো খোঁজই নেই।
কাসীদায়ে শাহ নেয়ামাতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে আরো জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন।
পবিত্র কাসিদা শরিফ টি পিডিএফ আকারে পড়ুন ও ডাউনলোড করুন এখান থেকে।
হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাসিদা শরিফ এর উর্দু পিডিএফ ডাউনলোড লিংকঃ
(https://goo.gl/dnRMps ) ১.৩ মেগাবাইট ৬০ পৃষ্টা
(https://goo.gl/HAogGF ) ৬.৮ মেগাবাইট ৬০ পৃষ্টা
কবিতা টি ইসলামিক ফাউন্ডেসনের প্রকাশিত “কাসিদায়ে সাওগাত” বইতে পাবেন। এই ছাড়াও মদিনা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ”মুসলিম পুনঃজাগরণ প্রসঙ্গ ইমাম মাহদি” বইতেও পাবেন। যারা উর্দু বুঝেন তারা এই নিয়ে ৮ পর্বের সিরিজ আলোচনা শুনতে পারেন, পাকিস্তানী বিশেষজ্ঞ জায়েদ হামিদ খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা সহ কারে উনার সকল ভবিষ্যৎ বাণী (ইলহাম) তুলে ধরেছেন।
বাংলা ভাষায় রুহুল আমীন খান অনূদিত শাহ নিয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি কবিতা ১৯৭০/৭১ এর দিকে এদেশে প্রকাশিত হয়েছিল।
কবিতাটিতে ৫৪ টি প্যারা রয়েছে। কোনো এক ভাই সেটি অনলাইনে সংকলন করেছিলেন, আমি নতুন করে পরিমার্জিত করে পুনঃসম্পাদন করে নিম্নে তা দিলাম টিকা ছাড়া।
(১)
পশ্চাতে রেখে এই ভারতবর্ষের অতীত কাহিনী যতো
আগামী দিনের সংবাদ কিছু বলে যাই অবিরত।
(২)
দ্বিতীয় দাওরে হুকুমত হবে তুর্কী মুঘলদের
কিন্তু শাসন হইবে তাদের অবিচার যুলুমের।
(৩)
ভোগ বিলাসে আমোদ-প্রমোদে মত্ত থাকিবে তারা
হারায়ে ফেলিবে স্বকীয় মহিমা তুর্কী স্বভাব ধারা।
(৪)
তাদের হারায়ে ভিন দেশী হবে শাসন দণ্ডধারী
জাকিয়া বসিবে, নিজ নামে তারা মুদ্রা করিবে জারি।
(৫)
এরপর হবে রাশিয়া-জাপানে ঘোরতর এক রণ
রুশকে হারিয়ে সেই রণেতে বিজয়ী হবে জাপানীগণ।
(৬)
শেষে দেশ-সীমা নিবে ঠিক করে মিলিয়া উভয় দল
চুক্তিও হবে, কিন্তু তাদের অন্তরে রবে ছল।
(৭)
ভারতে তখন দেখা দিবে প্লেগ আকালিক দুর্যোগ
মারা যাবে তাতে বহু মুসলিম হবে মহাদুর্ভোগ।
(৮)
এরপর পরই ভয়াবহ এক ভূকম্পনের ফলে
জাপানের এক তৃতীয়াংশ যাবে হায় রসাতলে।
(৯)
পশ্চিমে চার সালব্যাপী তখন হবে ঘোরতর মহারণ
প্রতারণা বলে হারাবে এ রণে জীমকে আলিফগণ।
(১০)
এ সমর হবে বহু দেশ জুড়ে অতীব ভয়ঙ্কর
নিহত হইবে এতে এক কোটি ত্রিশ লক্ষ নারী ও নর।
(১১)
অতঃপর হবে রণ বন্ধের চুক্তি উভয় দেশে
কিন্তু তা হবে ক্ষণভঙ্গুর টিকিবে না অবশেষে।
(১২)
নিরবে চলিবে মহাসমরের প্রস্তুতি বেশুমার
‘জীম’ ও আলিফে খ- লড়াই ঘটিতে থাকিবে বারংবার।
(১৩)
চীন ও জাপানে দু’দেশ যখন লিপ্ত থাকিবে রণে
নাসারা তখন রণ প্রস্তুতি চালাবে সঙ্গোপনে।
(১৪)
প্রথম মহা-সমরের শেষে একুশ বছর পর
শুরু হবে ফের আবারো তখন ভয়াবহ দ্বিতীয়-সমর।
(১৫)
ভারতবাসী এই সমরে যদিও সহায়তা দিয়ে যাবে
তার থেকে তারা প্রার্থিত কোন সুফল নাহিকো পাবে।
(১৬)
বিজ্ঞানীগণ এ সমরকালে হবে অতিশয় আধুনিক
করিবে তৈয়ার অতি ভয়াবহ হাতিয়ার আনবিক।
(১৭)
গায়েবী ধনির যন্ত্র বানাবে নিকটে আসিবে দূর
প্রাচ্যে বসেও শুনিতে পাইবে প্রতীচীর গান-সুর।
(১৮)
মিলিত হইয়া ‘প্রথম আলিফ’
‘দ্বিতীয় আলিফ’ দ্বয়
গড়িয়া তুলিবে রুশ-চীন সাথে আতাত সুনিশ্চয়।
(১৯)
ঝাপিয়ে পড়িবে ‘তৃতীয় আলিফ’ এবং দু’জীম ঘাড়ে
ছুড়িয়া মারিবে গজবী পাহাড় আনবিক হাতিয়ারে।
(২০)
জগৎ জুড়িয়া ছয় সালব্যাপী এই রণে ভয়াবহ
হালাক হইবে অগিণত লোক ধন সম্পদ সহ।
(২১)
মহাধ্বংসের এ মহাসমর অবসানে অবশেষে
নাসারা শাসক ভারত ছাড়িয়া চলে যাবে নিজ দেশে
কিন্তু তাহারা থাকিবার লাগি চিরকাল ভারতবাসীর মনে
মহাক্ষতিকর বিষাক্ত বীজ বুনে যাবে সেই সনে।
(২২)
ভারত ভাঙ্গিয়া হইবে দু’ভাগ শঠতায় নেতাদের
মহাদুর্ভোগ দুর্দশা হবে দু’দেশেরি মানুষের।
(২৩)
মুকুটবিহীন নাদান বাদশা পাইবে শাসনভার
কানুন ও তার ফর্মান হবে আজেবাজে একছার।
(২৪)
দুর্নীতি ঘুষ কাজে অবহেলা নীতিহীনতার ফলে
শাহী ফর্মান হবে পয়মাল দেশ যাবে রসাতলে।
(২৫)
হায় আফসোস করিবেন যত আলেম ও জ্ঞানীগণ
মূর্খ বেকুফ নাদান লোকেরা করিবে আস্ফালন।
(২৬)
পেয়ারা নবীর (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতগণ ভুলিবে আপন শান
ঘোরতর পাপ পঙ্গিলতায় ডুবিয়া থাকিবে গাফেল মুসলমান।
(২৭)
কালের চক্রে স্নেহ-তমীজের ঘটিবে যে অবসান
লুণ্ঠিত হবে মানী লোকদের ইজ্জত ও সম্মান।
(২৮)
উঠিয়া যাইবে বাছ ও বিচার হালাল ও হারামের
লজ্জা রবে না, লুণ্ঠিত হবে ইজ্জত নারীদের।
(২৯)
পশুর অধম হইবে তাহারা ভাই-বোনে, মা-বেটায়
জেনা ব্যাভিচারে হইবে লিপ্ত পিতা আর কন্যায়।
(৩০)
নগ্নতা আল অশ্লীলতায় ভরে যাবে সব গৃহ
নারীরা উপরে সেজে রবে সতী ভেতরে বেচিবে দেহ।
(৩১)
উপরে সাধুর লেবাস ভেতরে পাপের বেসাতি পুরা
নারী দেহ নিয়ে চালাবে ব্যবসা ইবলিসের বন্ধুরা।
(৩২)
নামায ও রোজা, হজ্জ্ব যাকাতের কমে যাবে আগ্রহ
ধর্মের কাজ মনে হবে বোঝা দারুন ও দুর্বিষহ।
(৩৩)
কলিজার খুন পান করে বলি শোন হে বৎসগণ
খোদার ওয়াস্তে ভুলে যাও সব নাসারার আচরণ।
(৩৪)
পশ্চিমা ঐ অশ্লীলতা আর নগ্নতা বেহায়াপনামি
ডোবাবে তোমাদের,
খোদার কঠোর গজব আসিবে নামি।
(৩৫)
ধ্বংস নিহত হবে মুসলিম বিধর্মীদের হাতে
হবে নাজেহাল, ছেড়ে যাবে দেশ ভাসিবে রক্তপাতে।
(৩৬)
মুসলমানের জান-মাল হবে খেলনা-মুল্যহত
রক্ত তাদের প্রবাহিত হবে সাগর স্রাতের মত।
(৩৭)
এরপর যাবে ভেগে নারকীরা পাঞ্জাব কেন্দ্রের
ধন সম্পদ আসিবে হাতে দখলে মুমিনদের।
(৩৮)
অনুরূপ হবে পতন একটি শহর মুমিনদের
তাহাদের ধনসম্পদ যাবে দখলে হিন্দুদের।
(৩৯)
হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ সেখানে চালাইবে তারা ভারি
ঘরে ঘরে হবে ঘোর কারবালা ক্রন্দন আহাজারি।
(৪০)
মুসলিম নেতা-অথচ বন্ধু কাফেরের তলে তলে
মদদ করিবে অরি কে সে এক পাপ চুক্তির ছলে।
(৪১)
প্রথম অক্ষরেখায় থাকিবে শীনে’র অবস্থান
শেষের অক্ষরে থাকিবে নূন’ ও বিরাজমান
ঘটিবে তখন এসব ঘটনা মাঝখানে দু’ঈদের
ধিক্কার দিবে বিশ্বের লোক জালিম হিন্দুদের।
(৪২)
মহরম মাসে হাতিয়ার হাতে পাইবে মুমিনগণ
ঝঞ্বারবেগে করিবে তাহারা পাল্টা আক্রমণ।
(৪৩)
সৃষ্টি হইবে ভারত ব্যাপিয়া প্রচণ্ড আলোড়ন
‘উসমান’ এসে নিবে জেহাদের বজ্র কঠিন পণ।
(৪৪)
‘সাহেবে কিরান-‘হাবীবুল্লাহ’ হাতে নিয়ে শমসের
খোদায়ী মদদে ঝাপিয়ে পড়িবে ময়দানে যুদ্ধের।
(৪৫)
কাপিবে মেদিনী সীমান্ত বীর গাজীদের পদভারে
ভারতের পানে আগাইবে তারা মহারণ হুঙ্কারে।
(৪৬)
পঙ্গপালের মত ধেয়ে এসে এসব ‘গাজীয়ে দ্বীন’
যুদ্ধে জিতিয়া বিজয় ঝাণ্ডা করিবেন উড্ডিন।
(৪৭)
মিলে এক সাথে দক্ষিণী ফৌজ ইরানী ও আফগান
বিজয় করিয়া কবজায় পুরা আনিবে হিন্দুস্তান।
(৪৮)
বরবাদ করে দেয়া হবে দ্বীন ইসলামের ছিলো যারা দুশমন
অঝোর ধারায় হইবে তখন মহান আল্লা’র রহমত বর্ষণ।
(৪৯)
দ্বীনের বৈরী ছিলো শুরুতে ছয় হরফেতে নাম
প্রথম হরফ গাফ সে কবুল করিবে দ্বীন ইসলাম।
(৫০)
মহান আল্লা’র খাস রহমতে হবে মুমিনেরা খোশদিল
হিন্দু রসুম-রেওয়াজ এ ভূমে থাকিবে না এক তিল।
(৫১)
ভারতের মত পশ্চিমাদেরও ঘটিবে বিপর্যয়
তৃতীয় বিশ্ব সমর সেখানে ঘটাইবে মহালয়।
(৫২)
এ রণে হবে ‘আলিফ’ এরূপ পয়মাল মিসমার
মুছে যাবে দেশ, ইতিহাসে শুধু নামটি থাকিবে তার।
(৫৩)
যত অপরাধ তিল তিল করে জমেছে খাতায় তার
শাস্তি উহার ভুগতেই হবে নাহি পাপে নিস্তার
কুদরতী হাতে কঠিন দণ্ড দেয়া হবে তাহাদের
ধরা বুকে শির তুলিয়া নাসারা দাড়াবে না কভু ফের।
(৫৪)
যেই বেঈমান দুনিয়া ধ্বংস করিল আপন কামে
নিপাতিত শেষকালে সে যাবে নিজেই জাহান্নামে।
(৫৫)
রহস্যভেদী যে রতন হার গাথিলাম আমি গায়েবী মদদ লভিতে,
আসিবে উস্তাদসম কাজে তাহা ভবিষ্যতে।
(৫৬)
অতিসত্বর যদি, মহান আল্লা’র মদদ পাইতে চাও
উনারই হুকুম তালিমের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দাও।
(৫৭)
‘কানা জাহুকার’ প্রকাশ ঘটার সালেই প্রতিশ্রুত
ইমাম মাহাদি (আলাইহিস সালাম) দুনিয়ার বুকে হবেন আবির্ভূত।
(৫৮)
চুপ হয়ে যাও ওহে নেয়ামত এগিও না মোটে আর
ফাঁস করিও না খোদার গায়বী রহস্যের ভাণ্ডার
এ কাসিদা বলা করিলাম শেষ ‘কুনুত কানয’ সালে
অদ্ভুত এই রহস্যের কাসিদা ফলিবে কালে কালে।
টীকাঃ ‘কুনুত কানয সাল’
অর্থাৎ হিজরি সন ৫৪৮ মোতাবেক ১১৫৮ ইংরেজি সাল হচ্ছে এ কাসিদার রচনা কাল। এটা আরবি হরফের নাম অনুযায়ী সাংকেতিক হিসাব।

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত মুবারক পরিচিতি

images

النبى اولى بالـمؤمنين من انفسهم وازواجه امهاتهم

অর্থ : মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের জীবনের চেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অতি প্রিয়। আর উনার আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের মাতা তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ০৬)

অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কায়িনাতবাসীর মাতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা দ্বারা উনাদের সীমাহীন মর্যাদা ও বুযুর্গী-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। সঙ্গত কারণেই উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক সম্পর্কে অবহিত হওয়া সকলের জন্যই অত্যাবশকীয়। Read the rest of this entry

গান-বাজনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থসম্পদ হারাম

gan bajnaহারাম খেলাধুলা, গান-বাজনা ও নাটক-সিনেমায় মিথ্যা অভিনয় করার মাধ্যমে উপার্জিত সমস্ত অর্থসম্পদ হারাম।
আর হারাম অর্থসম্পদ গ্রহণকারী ব্যক্তির কোনো ইবাদত-বন্দেগী কবুল তো হবেই না; উপরন্তু সে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। নাউযুবিল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ‘আম্বিয়া’ শরীফ ১৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আসমান-যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা আমি খেলাধুলার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।” Read the rest of this entry

একটি মনগড়া দল গঠনই ল্যাংড়া ইলিয়াস সাহেবের উদ্দেশ্য ছিল

ইলিয়াস সাহেব ও তার প্রবর্তিত ৬ উছুলী গাট্টি তাবালীগ জামায়াUntitled-12তের লোকেরা তাসাউফ শিক্ষার প্রতি আগ্রহী না থাকলেও ল্যাংড়া ইলিয়াসের মলফুযাতে ইলিয়াস সাহেব যে ইলম ও যিকিরের কথা ব্যক্ত করেছে, তাতে প্রকারন্তরে ইলমে তাসাউফের ক্বালবী যিকিরের কথাই প্রকাশ পায়। যেমন- ইলিয়াস সাহেব তার মলফুযাতের বিভিন্ন মলফুযাত যথা (৬, ৩৫, ৬৯, ২৮১) ইত্যাদিতে বিশেষভাবে ইলম ও যিকিরের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, Read the rest of this entry

যেসব মালানা-মৌলভী টেলিভিশন দেখে ও এতে অনুষ্ঠান করে থাকে তাদের পিছনে নামায পড়া জায়িয নেই

Olamaye Chu 1টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করা ও টেলিভিশন দেখা উভয়টাই সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িযের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যে সমস্ত মালানা মৌলভী টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করে ও টেলিভিশন দেখে তারা দু’ শ্রেণীতে বিভক্ত। Read the rest of this entry

দারুল উলুম দেবন্দীদের কতিপয় কুফরী আক্বিদা

 

Untitled-1(১) আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা মিথ্যা বলতে পারেন। (নাঊযুবিল্লাহ) (দলীল : রশিদ আহমদ গাংগুহী, ফতওয়া রশিদিয়া , ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৯। রশিদ আহমদ গাংগুহী, তালিফাত রশিদিয়া, কিতাবুল আক্বাইদ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৯৮। খলীল আহমদ আম্বেটী, তাজকিরাতুল খলীল, পৃষ্ঠা ১৩৫। মেহমুদ হাসান, আল-জিহাদুল মুগিল, পৃষ্ঠা ৪১।)

(২) আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার বান্দা ভবিষ্যতে কি করবে না করবে তা আগে থেকে তিনি বলতে পারেন না। বান্দা কর্ম সম্পাদনের পর আল্লাহ্‌ তা জানতে পারেন। (নাঊযুবিল্লাহ) (দলীল : হুসাইন আলী, তাফসীরে বুঘাতুল হাইরান, পৃষ্ঠা ১৫৭-১৫৮।) Read the rest of this entry

66503478_2350481405044876_2937003356897411072_nদেশের যেসব স্কুল-কলেজ বোরকা ও হিজাব নিয়ে ঝামেলা করে তাদেরকে হাইকোর্টের এই রুলটি জানিয়ে দিন–
_____________________
বোরকা-হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করতে হাইকোর্টের রুল Read the rest of this entry

%d bloggers like this: